সংগ্রহে: মুহাম্মদ আলি
কবি বলেন, বসরার স্বর্ণকার দলের এক ব্যক্তিকে দেখেছিলাম তিনি বর্ণনা করছিলেন, একটা মরু ভূমির মাঝে আমি পথহারিয়ে ফেলেছিলাম। সঙ্গে খাদ্য পানীয় কিছুই ছিলনা। ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর প্রহর গুণছিলাম। হঠাৎ দেখতেপেলাম সেই জনহীন মরুভূমির মাঝে একটা ভরা থলেপড়ে আছে। মন আনন্দে ভরে উঠল। সেই খুশি আনন্দের কথা জীবনে ভুলতে পারবনা। মনে করেছিলাম গমের রুটি। কিন্তু দুর্ভাগ্য! থলে খুলে দেখি, তাতে মূল্যবান শ্বেত মর্মর পাথর। হতাশায় একেবারে মুষড়ে পড়লাম।
এমনিভাবে এক গরীব বেচারা বিশাল মরূপ্রান্তরে একাকী পথ হাড়িয়ে ফেলছিল। সঙ্গে খাদ্যদ্রব্য কিছুই ছিলনা। পায়েও হাঁটার শক্তি ছিলনা। এদিক ওদিক সে অনেক খোজাখুঁিজ করল। কিন্তু পথের সন্ধান পেলনা। তাঁর কাছে কিছু পয়সাকড়ি ছিল। মুদ্রায় ক্ষুধা তৃষ্ণা মেটে না। অবশেষে সে প্রাণ হারাল। কিছুক্ষণ পড়ে সেই পথ দিয়ে আর একদল পথিক যাচ্চিল। তারা দেখতে পেল একটা লোক মৃত্যু অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর সামনে কয়েকটা মুদ্রা। আর বালির ওপর আঙ্গুল দিয়ে লেখা রয়েছে-
‘‘ খাদ্যভাবে যদি পড়ে কেউ মৃত্যুগ্রাসে
টাকা পয়সা তার কোন কাজে নাহি আসে।
মরু মাঝে নিরূপায় ক্ষুধার্ত বেচারা সোনা হতে দামী তার রুটির টুকরা।
উপদেশঃ মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যখন যা প্রয়োজন তা না হলে মানব জীবন হয় দুর্বীসহ। যখন খাদ্য প্রয়োজন তখন মুদ্রার দ্বারা কাজ হয় না। আর যখন অর্থের প্রয়োজন তখন খাদ্যবস্তু দ্বারা উপকার হয় না। ক্ষেত্র বিশেষ যা প্রয়োজন তাই দরকার। (শেখ সাদীর ১০০ গল্প:১৫)






No comments:
Post a Comment