ঘোষনা

”পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে” “আপনিও আপনার লেখনি প্রতিভা প্রকাশ করতে পারেন চয়েন বার্তার মাধ্যমে”

Saturday, September 27, 2014

না বলা কথা


 না বলা কথা

                       --মোঃ আঃ আলীম

একদা কোন একসময় কোন এক দেশে এক রাজ কন্যা বাস কারত। সে একদিন শিকারে বের হল। শিকার করতে করতে বনের মধ্যে হারিয়ে গেল। সারা দিন বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পরে।এক সময় সে স্থানে এক গরিব রাখ‍াল আসে,তার সাথে দেখা হয়।প্রথমে ঐ গরিব রাখাল রাজকুমারী কে দেখতে পায়। সেখানে ঐ রাখাল তার পরিচয় জানতে চায়।তাদের মধ্যে কথা হয়।তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করতে করতে একরকম বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। 

তখন রাজ কন্যা রাখাল কে বলে আমি তে পথ ভুলে গেছি আমার এখন মহলে ফিরতে হবে।তো প্রথম দিন সেই রাখাল তাকে মহলে রেখে চলে আসে।তারপর অন্য আরেক দিন রাজ কন্যা শিকারে বের হয়। আবার তাদের মধ্যে দেখা হয়ে যায়। সেদিন অবশ্য এমনিতেই দেখা হয়ে যায়।তখন রাখাল কে রাজ কন্যা বলে তোমার বাড়ি কোথায়,তুমি কি কর,উত্তরে রাখাল কিশোর তাকে সব বলে সে বনের পাশের গ্রামে থাকে। সে প্রতেহ্য এই বনে পশুচড়ায়।তখন রাজ কুমারী বলে সে দিন তুমি না থাকলে আমি হয়তো মরেই যেতাম....আমার নাম জেমী, আমার বাবা এই রাজ্জ্যের রাজা। তোমার নাম কি? আবার উত্তরে রাখাল বলে আমার নাম এ্যগেসটা আর আমি একজন গরিব কৃষকের ছেলে। রাজকুমারী জেমি বলে গরিব হয়েছো তো কিহয়েছে,গরিব রা কি মানুষ না। আর তোমাদের মত মানুষদের জন্যই আজ আমার বাব একজন রাজা । রাজকুমারীর এমন কথা, নিষ্ঠ-বাণী শুনে রাখাল এ্যগেসটা এর অনেক ভাল লাগে।আর লাখাল এর সুশ্রিল ব্যাবহারে রাজকুমারী জেমিও মুগদ্ধ হয়ে যায়।তারপর জেমি প্রায় প্রতিদিন ঐ বনে শিকারে যেত।আর এ্যগেসটা এর ও তার সাথে দেখা হয়ে যেত । তাদের এই দেখা কথা-বার্তা দিন দিন বারতে থাকে।হঠা একদিন রাজকুমারী জেমি বলল বন্ধু আমি কাল থেকে এক সপ্তাহ আসতে পারবনা,কাল আমাদের পাশের রাজ্জ্যের রাজা তার পরিবার সহ আমাদের এইখানে আসছে। তুমি যাদি পারো তাহলে আমাদের  মহলের পেছন দিকে এসো। এই বলে রাজকুমারী মন খারাপ করে বসে রইল,তখন এ্যগেসটা তাকে বলল আমি কাল থেকে এই সময় করে তোমাদের ঐখানে যাব। তুমি কোন মন কারাপ করো না বন্ধু আমি অবশ্যই যাব।তারপর সেদিন খেরাধুলা করে,গল্পকরে দিন কোটিয়ে দিল । পরের দিন, যে সময় করে তারা বনে দেখা করতো সে সময় রাখাল এ্যগেসটা জেমির কথা মত গেলো । গিয়ে দেখলো রাজকুমারী নেই । তখন রাখাল এ্যগেসটা সোই মহলের পেছনে জেমির অপেক্ষায় বসে রইল। অনেক্ষন অপক্ষা করে তারপরেও রাজকুমারী আসে না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধা,তারপার রাত। এ্যগেসটা জেমির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একসময় ঘুমিয়ে পরলো। তারপার সকালে রাজকুমারী জেমি বাগানে হাটতে এসে দেখে এ্যগেসটা ঘুমিয়ে আছে। তাকে দেখে রাজকুমারী বলে উঠলো তুমি এইখানে কি কর..। রীতিমত রাজকুমারী অবাক জেমির কথা শুনে এ্যগেসটা এর ঘুম ভাঙ্গে। সে গত কালের কথা বলে। রাজকুমারী শুনে কোন সময় না নিয় তাকে বাড়ি যেতে বলে। এ্যগেসটা তার কথা মত বাড়ি ফিরে যায়। আর রাজকুমারী তার কক্ষে ফিরে এ্যগেসটা এর কথা মনে  পরে। সে শুধু ভাবে,ভাবতে ভাবতে তার এ্যগেসটা কে দেখতে চায়। রাজকুমারী সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই বনে এ্যগেসটা এর সাথে দেখা করতে গেল। গিয়ে দেখে এ্যগেসটা মন খারাপ করে বসে আছে। জেমি তার পাশে বসে । তারপর গত কালের জন্য তার কাছে ক্ষমা চাইল। এ্যগেসটার এর বন্ধু সুলভ মন তার কথায় গলে গেল। আবার তারা হাসি আনন্দে দিন কাটাতে লাগলো। এই ভাবে চলতে চলতে একদিন রাজকুমারী মহলে ফিরতে রাত হল। সে দিন রাজকুমারীর বাবা রাজা জন সেভি তার এই প্রতেহ্য শিকারে না যাওয়‍ার নির্দেশ দিল। জেমি তার বাবার সাথে কথা বলতে বলতে তর্কজুরে দিল।তখন রাজা জন সেভি তার রাজমহলের বাহিরে যাওয়াই বন্ধ করে দিল। তারপর থেকে জেমির আর বাহিরে যাওয়া হলনা। সে দিন রাত নিশ্ব পলক মন খারাপ করে নিজ কক্ষে বসে থাকে। ঐ দিকে বেচারা গরিব রাখালের নির্মম দুর্দশা। সে তার পশুচাড়নের প্রতিটি স্থানে,সব সময় শুধূ রাজকুমারী কে দেখে । কিন্তু কাছে গেলে বুঝতে পারে সে ভুল দেখছে। আসলে রাজকুমারীর সাথে কাটানো এতগুলো দিন তার মনের মধ্যে একটা কিসের যেন আচর কেটেছে। একমসয় বেচারা রাখাল বুঝতে পারে রাজকুমারী জেমিকে নিজের অজান্তে ভালবেসে ফেলেছে।কিন্তু জেমি কি তার মত তাকেও ভালবাসে। এটা তো এ্যগেসটা জানে না কারন জেমিকে এ্যগেসটা কখনো এভাবে ভেবে দেখেনি । ওইদিকে জেমিও তাকে কোন দিন বন্ধু ছাড়া কোন কিছু ভাবেনি। এই রকম নানান চিন্তা ভাবতে শুরু করলো তার দিন যেন আর কাটছে না।সে রাজকুমারীর সাথে দেখা করবে মন স্থির করল।  কিন্তু কিভাবে ..... । আবার সে রাজকুমারী কে কি করে মনের ভেতরে লুকানো সেই একবুক উদিয়মান, আকাশ সমান ভালবাসা প্রকাশ করবে। আর বললে যদি সে তার বন্ধুর সর্ম্পক্ ছিন্ন করে।বেচারা রাখাল এক রকম চিপায় পরে গেল এখন সে কোন টা চাইবে, তার বন্ধু কে না ভালবাসাকে।এ্যগেসটা প্রথমে ভাবল  সে তার পুরনো বন্ধুকে চায়। কিন্তু অন্যা দিকে তার এক বুক ভালবাসা কে কবর দিতে হচ্ছে। তখন এ্যগেসটা সাত-পাঁচ না ভেবে তার রাজকুমারীর সাথে দেখা কররা উদ্দেশে রওনা দিল। পথিমধ্যে সে ভেবে নিল রাজকুমারীকে গিয়ে তার বালবাসার কথাই জানাবে। কারন রাজকুমারী জেমি কে সত্যিই সত্যি ভালবাসে। রাখাল এ্যগেসটা এর রাজমহলে পৌছতে দুই দিন লেগে গেল কারন তার কোন ঘোরা-গাড়ী ছিল না। সে রাজ দরবারে পৌছে দেখে সেখানে মানুষজন অনেক আনন্দ করেছে। এই দেখ এ্যগেসটা কিছু বুঝতে না পেরে এক পথিক কে জিঞাসা করে জানতে পারলো,পাশের রাজ্জ্যের রাজকুমারের সাথে তাদের রাজ্জ্যের রাজার একমাত্র কন্যা রাজকুমারী জেমির আজ বিয়ে হচ্ছে। তাই সবাই রাজ দরবারে বিয়ের নিমন্ত্রন্য দাওয়াত খেতে যাচ্ছে।এই কথা শুনে এ্যগেসটা যেন কিছুক্ষনের জন্য থ-মেরে গেল্ কিন্তু এই কথা সে কোন রকমেই বিশ্বাস করতে চাইছিল না। সে তার মন কে শক্ত করে রাজ মহলের দিকে গেল এবং যা দেখলো তা দেখার জন্য কোন রকমেই প্রস্তূত ছিল না। রাজ কুমারী বধু সেজে বরের পাশে বসে আছে। এই দৃশ্য দেখে রাখাল আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিল না। তার মনের মানুষের আজ বিয়ে। এ্যগেসটা তখন বুঝতে পারলো তার অনেক দেরী হয়ে গেছে। চখের জলে তার বুক ভিজে যাচ্ছিল। জেমি কে তার নিজের করে পাওয়া তো দুরে থাক, সে তাকে ভালবাসে এই কথাই বলতে পারলো না। এই ব্যথা এই দুঃখ তার হৃপিন্ড কে ছিরে বের করে দিচ্ছে। তখন সে পাগলের মত বিলাপ শুরু করেদিল। এরি মধ্যে ঠাকুরের মন্ত্র পাঠ শেষ হল বর-কনে কে মালা পরিয়ে দিল। এ্যগেসটা রাজকুমারীর দিকে তাকিয়ে দেখলো জেমি অনেক খুশি। তার এমন খুশি দেখে রাখাল এ্যগেসটা তার সব দুঃখ কষ্ট ভুলে আবার পশুচারনে  ফিরে গেলো।### প্রিয় বন্ধুরা এই গল্প আপনাদের কেমন লাগলো। আশা করি ভালই লেগেছে। আমার আগামী গল্প পড়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের মত বিদায়।

*** mgvß ***




No comments:

Post a Comment